স্মরণ: বাংলাদেশের প্রয়াতদের জন্য একটি উন্মুক্ত স্মৃতি-আর্কাইভ
এই লেখাটি English-এও পড়ুন →
কেউ চলে গেলে তাঁর খবর ছড়ায় ফেসবুকের একটা পোস্টে, কয়েকদিন পর সেটা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়। কয়েক বছর পর নাতি-নাতনিরা যখন দাদা-দাদির জন্ম-মৃত্যুর তারিখ বা গ্রামের নাম খোঁজে, তখন কোথাও কিছু পাওয়া যায় না। স্মরণ বানিয়েছি এই সমস্যার একটা সহজ সমাধান হিসেবে।
স্মরণ কী?
স্মরণ বাংলাদেশের প্রয়াত মানুষদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও বিনামূল্যের শোক সংবাদ আর্কাইভ। যে কেউ লগইন ছাড়াই প্রয়াত স্বজনের নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ, এলাকা আর ছবি দিয়ে একটা স্থায়ী স্মৃতি-পাতা তৈরি করতে পারেন।
মূল ফিচারগুলো
- স্থায়ী আইডি: প্রতিটি পাতা জেলা ও সাল অনুযায়ী একটা আইডি পায়, যেমন
BD-DHK-26-000123। এই আইডি দিয়ে বহু বছর পরেও পাতাটা খুঁজে পাওয়া যাবে। - খোঁজার সুবিধা: বাংলা বা ইংরেজি নাম, পিতা/মাতা/স্বামীর নাম বা আইডি দিয়ে খোঁজা যায়। বিভাগ, জেলা, সাল আর মৃত্যুর কারণ দিয়ে ফিল্টারও আছে।
- যাচাই ব্যবস্থা: অ্যাডমিন যাচাই করলে পাতায় সবুজ "১০০% যাচাইকৃত" ব্যাজ বসে, তার আগ পর্যন্ত থাকে "অযাচাইকৃত"।
- শোক-কার্ড: প্রতিটি পাতা ছাপানো শোক-কার্ডের মতো সাজানো। এইচডি ছবি হিসেবে ডাউনলোড, প্রিন্ট আর শেয়ার করা যায়।
- মোমবাতি জ্বেলে শ্রদ্ধা: একটা বাটনে চাপ দিলেই মোমবাতি জ্বলে ওঠে, আর শ্রদ্ধা জানানো মানুষের সংখ্যা যোগ হয়।
যে সিদ্ধান্তগুলো সবচেয়ে কঠিন ছিল
এমন একটা সাইটে প্রযুক্তির চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো মানুষের অনুভূতি আর নিরাপত্তা।
মৃত্যুর কারণ ঐচ্ছিক রেখেছি। ডিফল্ট হলো "প্রকাশ করতে চাই না"। হত্যা বা আত্মহত্যার মতো কারণ তালিকায় ইচ্ছা করেই রাখিনি, কারণ এতে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা বা পরিবার সামাজিকভাবে কষ্ট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ভুল পোস্ট ঠেকানোর ব্যবস্থা। আলাদা তিনজন রিপোর্ট করলে পোস্ট নিজে থেকে লুকিয়ে যায়। কেউ "এই ব্যক্তি জীবিত আছেন" রিপোর্ট করলে একবারেই লুকায়। একটা ডিভাইস থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচটা পোস্ট দেওয়া যায়।
গোপনীয়তা। যিনি পোস্ট করেন তাঁর ফোন নম্বর কখনো পাবলিক হয় না। পোস্টকারী একটা গোপন এডিট কোড পান, তা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই পরে নিজের পোস্ট এডিট বা মুছে ফেলতে পারেন।
কী দিয়ে বানানো
- ফ্রন্টএন্ড: সাধারণ HTML, CSS আর JavaScript, কোনো ভারী ফ্রেমওয়ার্ক নেই। তাই ধীর ইন্টারনেটেও দ্রুত খোলে।
- ডেটাবেস ও ছবি: Supabase (Postgres)। নিরাপত্তার নিয়ম ডেটাবেসের ভেতরেই লেখা, তাই কেউ সরাসরি ডেটাবেসে ঢুকে নিয়ম ভাঙতে পারে না।
- হোস্টিং: Vercel। প্রতিটি শোক সংবাদ পাতা সার্ভারেই তৈরি হয়, তাই Google আর ফেসবুক নাম, ছবি আর তারিখসহ পাতাটা ঠিকভাবে দেখতে পায়।
- AI: ডিজাইন, কোড আর SEO-র অনেক কাজে AI সহকারী ব্যবহার করেছি। কোন ফিচার থাকবে আর কোনটা থাকবে না, সেই সিদ্ধান্তগুলো নিজে নিয়েছি।
ডিজাইনের ভাবনা
রঙ বেছে নিয়েছি শান্ত রাখার জন্য: রাতের আকাশের নেভি ব্লু, উষ্ণ ক্রিম, সোনালি আর হালকা মিন্ট। শুরুর পাতায় তারাভরা আকাশে তিনটা মোমবাতি জ্বলে। চেয়েছি সাইটটা দেখতে যেন একটা নিঃশব্দ স্মৃতিস্তম্ভের মতো লাগে, কোনো সংবাদ পোর্টালের মতো নয়।
এরপর কী
জেলাভিত্তিক আলাদা পাতা, আরও ভালো খোঁজার ব্যবস্থা, আর জানাজা/শেষকৃত্যের সময় ও স্থান জানানোর সুবিধা নিয়ে কাজ করছি। আপনার কোনো পরামর্শ থাকলে আমাকে জানান।